টার্কির কোরাইজা

টার্কি কোরাইজা (Turkey Coryza ) :-

টার্কির কোরাইজা রোগ হলো উর্ধশ্বাসতন্ত্রীয় তীব্র সংক্রামক ও ছোঁয়াচে রোগ। যা এলকালিজেনস রাইনোট্রাকাইটিস (Alcaligenes rhinotrachitis),বোর্ডেটেলা ব্রনকিসেপ্টিকা (Bordetella bronchiseptica),এলকালিজেনস ফ্যাকালিস (Alcaligenes Faecalis) নামক জীবাণু দ্বারা হয়। এ রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো উর্ধশ্বাসতন্ত্রের ক্ষীণ কণ্ঠস্বর ,গরগর শব্দ করা,নাক দিয়ে অতিরিক্ত শ্লেশ্মা নিঃস্বরণ ও তীব্র শ্বাস কষ্ট। এ রোগে আক্রান্ত হলে বাণিজ্যক টার্কি খামারে উৎপাদন ব্যহত ও মৃতুজনিত কারণে টার্কি খামারে আর্থিক ক্ষতি সাধন হয়।

বিস্তার (Transmission ) : —
আক্রান্ত টার্কির সাথে সরাসরি সংস্পর্শে এ রোগ অতি সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। বাচ্চা টার্কি (poult) অতি সহজেই এ রোগে আক্রান্ত হয়। এক খামার থেকে অন্য খামারের দূরত্ব কম হলে এ রোগ দ্রুতই বিভিন্ন খামারে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত খামারের লিটার বাতাসে উড়ালে লিটারের সূক্ষ্ম কণার মাধ্যমে এ রোগ বিস্তার লাভ করে। খাদ্য ও পানির মাধ্যমে এ রোগ বিস্তার লাভ করে। খাদ্য ও পানির পাত্রের মধ্যে এলকালিজেনস ফ্যাকালিস (Alcaligenes Faecalis ) ৬ মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকে। যা থেকে পূণরায় নতুন করে এ রোগ বিস্তারের সুযোগ থাকে।

সুপ্তিকাল (Incubation period of Turkey Coryza ) :-
এ রোগের সুপ্তিকাল ৭থেকে ৯ দিন।

রোগের লক্ষণ (Clinical Signs) : –
টার্কি এ রোগে আক্রান্ত হলে টার্কির কণ্ঠস্বর ক্ষীণ (Sinking ) হয়ে আসে। অতিরিক্ত শ্লেশ্মা নিঃস্বরণ,চোখে ফ্যানাযুক্ত অশ্রু ,কনজাংটিভাইটিস খাদ্য ও পানি গ্রহণে অনীহা,দ্রুত দৈহিক ওজন হ্রাস,গলার কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন হয়। তীব্র শ্বাস কষ্ট হবে এবং শেষে মারা যাবে। বাচ্চা টার্কি (poult )উষ্ণতার জন্য একত্রে জড়ো হবে।এমনকি পাইলিংও হতে পারে। এ রোগের সাথে সাধারণত এসকারেসিয়া কোলি (Escherichia Coli )ও রাণীক্ষেত রোগ (Newcastle Disease ) একই সাথে যুক্ত হতে পারে।
খামারে পালিত টার্কি ফ্লকে এ রোগে আক্রান্তের হার ১০০% এবং মৃত্যুর হার ৫থেকে ৭৫%পর্যন্ত হতে পারে।এ রোগে আক্রান্ত টার্কির মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাবে যদি খামার ব্যবস্থাপনা ত্রুটি থাকে। গ্রীষ্মকালীন সময়ে গরম আদ্রর্তা,অপর্যাপ্ত বায়ুপ্রবাহ,খামারের অভ্যন্তরে অতিরিক্ত এমোনিয়া গ্যাসের উপদ্রব,অতিরিক্ত স্যাতস্যাতে আদ্রর্তা বিরাজমান থাকলে টার্কি এ রোগের ব্যাপকতা আরো বেড়ে যায়। টার্কি কোরাইজার সাথে পাসচুরেলা মাল্টোসিডা (Pasteuralla multocida ) ও হ্যামোরেজিক এন্টেরাইটিস ( Haemorrhagic enteritis ) এর সমন্বয় হলে টার্কির মৃত্যুর হার আরো বৃদ্ধি পাবে।
পোস্টমর্টেম পরীক্ষা (Post mortem Lesions ) : –
নাসিকা রন্ধ্রে ও ট্রাকিয়ায় অতিরিক্ত শ্লেশ্মা নিঃস্বরণ ও তীব্র শ্বাস কষ্ট হবে। ট্রাকিয়ার তরুণাস্থি চুপসে যাওয়া এ রোগের অন্যতম লক্ষণ। চোয়াল ফুলে যাবে। ই,কোলাই সংক্রমণের ফলে পেরিহেপাটাইটিস (Perihepatitis) ও পেরিকার্ডাইটিস (pericarditis) লক্ষণ পাওয়া যায়।

প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Prevention and control measures of Turkey Coryza ) : –—-
এ রোগ প্রতিরোধে উন্নত জীবনিরাপত্তা ,পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা,যথাযথ মুক্ত বায়ু চলাচলের সুব্যবস্থা,এমোনিয়া গ্যাস মুক্ত খামার ব্যবস্থাপনা,লিটারের আদ্রর্তা সঠিক মাত্রায় রাখা,খাদ্য ও পানির পাত্র পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ইত্যাদি সঠিক ভাবে মেনে চললে এ রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও খামারে পালিত টার্কি ফ্লকে নিয়মিত ফাউল কলেরা ও রাণীক্ষেত রোগের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হবে।

চিকিৎসা (Treatment ) :–
এ রোগে আক্রান্ত হলে ,ভেটেরিনরিয়ান এর পরামর্শ নিয়ে টার্কিকে এরোসোল (aerosol ) ও সালফোনেমাইড,স্ট্রেপটোমাইসিন ও অক্সিটেট্রাসাইক্লিন,স্পেকটিনোমাইসিন জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করা যেতে পারে।