খরগোশের পরিচিতি ও তার অভ্যাস

খরগোশ (Rabbit/Hares) সমন্ধে জানা দরকার :-

খরগোশ হলো তৃণভূজী (herbivores)প্রাণি ।তার অর্থ হলো খরগোশ উদ্ভিদ ভিত্তিক খাদ্য (plant based diet )গ্রহণে অভ্যস্ত ।তবে মাংসভোজী ( not eat meat )নয়।তাদের খাদ্যের মধ্যে ঘাস,পশুখাদ্য (clover) এবং কিছু সব্জি জাতীয় (cruciferous plants) বিশেষ করে ফুলকপি (broccoli) ও অঙ্কুরিত বাঁধাকপি (Brussels sprouts)।খরগোশ খুবই সুযোগ সন্ধানী ভক্ষক (very opportunistic feeders)।তারা সুযোগ পেলেই ফল,শস্যদানা,মূল,কুঁড়ি,মুকুল এবং গাছের বাকল ( tree bark) ইত্যাদি খেয়ে ফেলে ।তথ্য , according to ADW ( Animal Diversity Webs), The International Union for Conservation of Nature/IUCN and The Integrated Taxonomic Information System/ITIS ।

খরগোশ হলো ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণি যার দেহ তুলতুলে নরম কোমল লোম(fluffy),খাটো লেজ (short tail), গোঁফ (whiskers) এবং সুস্পষ্ট লম্বা কান (distinctive long ears) আছে ।পৃথিবী জুড়ে ৩০ টিরও বেশি প্রজাতি (Species) রয়েছে যারা বিভিন্ন আবহাওয়ায় টিকে আছে এবং তাদের অনেক বিষয়ে মিল আছে ।

খরগোশ ও আরো একজাতীয় খরগোশ (Rabbit and Hares) একই ট্যাক্সোনমিক পরিবারের(same Taxonomic family) ল্যাপোরিডি ( Leporidae )অন্তর্গত কিন্তু তাদের বিভিন্ন জেনারা (genera) ভুক্ত ।এ পরিবারের মধ্যে ১১ টি জেনারা (genera) রয়েছে ।কিন্তু এদের ‘True hares ‘ নামে নামকরণ করা হয়েছে ।এদের জেনাস (genus) হলো লেপাস (Lepus) ।এদের সবগুলোই আমেরিকান রেবিট ব্রিডার্স এসোসিয়েশন ( American Rabbit Breeder’s Association) কর্তৃক ৪৯ টি খরগোশ ব্রিড ( Rabbit breed) অনুমোদিত ।

খরগোশের ক্ল্যাসিফিকেশন/ ট্যাক্সোনমি (Classification/Taxonomy of Rabbit) : –

খরগোশের এ ট্যাক্সোনমি এনিম্যাল ডাইভার্সিটি ওয়েবস অনুযায়ী (according to Animal Diversity Webs/ADW )।

কিংডম (Kingdom) : এনিম্যালিয়া (Animalia)
ফাইলাম (Phylum ) : কর্ডাটা ( Chordata )
সাব-ফাইলাম (Sub-phylum) : ভার্টিব্রাটা (Vertebarata)
ক্লাস (Class) : ম্যামালিয়া (Mammalia)
অর্ডার ( Order) : ল্যাগোমর্ফা (Lagomorpha )
পরিবার ( Family) : লিপোরিডি ( Leporidae)
জেনারা (Genera) : –

১। ব্রাকিল্যাগাস (Brachylagus)/পিগমি খরগোশ (Pygmy rabbits),
২। বুনোল্যাগাস (Bunolagus)/রিভ্যারিনি খরগোশ
(riverine rabbits),
৩। নেসোল্যাগাস (Nesolagus)/সুমাট্রান খরগোশ (Sumatran rabbits),আর্নামাইট স্ট্রাইপড খরগোশ ( Arnamite striped rabbits),
৪। অরিক্টোল্যাগাস (Oryctolagus)/গৃহপালিত খরগোশ (Domestic rabbits),
৫। পেন্টাল্যাগাস (Pentalagus)/বানিওরো খরগোশ (Bunyoro rabbits),
৬। রোমেরোল্যাগাস (Romerolagus)/ভলক্যানো খরগোশ (Volcano rabbits),
৭। সিলভিল্যাগাস (Sylvilagus)/কটন টেইল খরগোশ (Cotton tail rabbits)।

প্রজাতি (Species) :

৫০ টির বেশি খরগোশের প্রজাতি আছে ।তবে গৃহপালিত খরগোশ (Domestic rabbits) হলো অরিক্টোল্যাগাস কিউনিকিউলাস (Oryctolagus Cuniculus)।

খরগোশের আকৃতি/আকার ও দৈহিক ওজন (Size and weight of rabbit) :–

কিছু কিছু খরগোশ আকারে প্রায় বিড়ালের সমান আবার কিছু আছে শিশুর মতো বড় আকারের ।ছোট আকারের খরগোশ বিশেষ করে পিগমি খরগোশ (pygmy rabbits) ৮ ইঞ্চি ( ২০ সে.মি.) লম্বা এবং ওজন ১ পাউন্ডের চেয়ে কম ।বড় আকারের প্রজাতির খরগোশ লম্বায় ২০ ইঞ্চি (৫০ সে.মি. ) এবং ওজন ১০ পাউন্ডের (৪.৫ কিলো গ্রাম) ।

According to Dr.Lianne McLeod,a Veterinarian , in a column for the spruce website, সবচেয়ে বড় আকারের খরগোশ ব্রিড হলো চেকার্ড জায়েন্ট (Checkered giant) ,যার দৈহিক ওজন ১১ পাউন্ডের ( ৫ কিলোগ্রাম) বেশি,ফ্লেমিস জায়েন্ট ( Flemish giant) ১৩ পাউন্ডের ( ৫.৯ কিলোগ্রাম) বেশি, জায়েন্ট প্যাপিলওন (giant papillon ) ১৩-১৪ পাউন্ডের (৫.৯ – ৬.৩ কিলোগ্রাম) বেশি,জায়েন্ট চিনচিলিয়া ( giant chinchilla) ১২ – ১৬ পাউন্ডের ( ৫.৪ -৭.২ কিলোগ্রাম) বেশি । পৃথিবীর সবচেয়ে বড় খরগোশ হলো, according to the Guinness world records,is a Flunish giant that clocked in at 4 feet 3 inches (১২৯ সে.মি) এবং যার ওজন ৪৯ পাউন্ড
(২২কিলোগ্রাম) ।
ছোট আকারের খরগোশ এর মধ্যে ব্রিটানিয়া পেটাইট (Britannia Petite) ২.৫ পাউন্ড (১.১ কিলোগ্রাম), নেদারল্যান্ড ডোয়্যার্ফ ওজন (Netherland dwarf) ২.৫ পাউন্ডের কম,ডোয়্যার্ফ হোটেট ( Dwarf hotet) ৩ পাউন্ডের (১.৩কিলোগ্রাম ) কম এবং হিমালয়ান (Himalayan) ২.৫ – ৪.৫ পাউন্ড (১.১ – ২ কিলোগ্রাম) ।

খরগোশের সন্তান-সন্ততি বা বংশধর ( Offspring of rabbits ) : —

খরগোশের জীবনকাল ১০ থেকে ১৩ বছর ।ব্রিডের ধরণ অনুযায়ী গড়ে ৩ থেকে ৮ মাস বয়সে খরগোশ পূর্ণাঙ্গরূপে যৌনতা প্রাপ্ত হয় ।বছরের তিন চতুর্থাংশ সময় জুড়ে খরগোশের ব্রিডিং সিজন ।খরগোশের কোন ইস্ট্রাস সাইকেল ( Oestrous cycle)/ ম্যানুষ্ট্রুয়াল সাইকেল (Menstrual cycle) নেই ।বছরের অধিকাংশ সময় এরা ম্যাটিং (mating) এর জন্য প্রস্তুত থাকে ।প্রতি সিজনে একটি স্ত্রী খরগোশ থেকে প্রায় ১০০ টি খরগোশ জন্মায়।যদি খরগোশের সমস্ত বাচ্চা টিকে থাকে ।এভাবে একটি খরগোশ থেকে ১০০০ টি খরগোশের বংশবৃদ্ধি ঘটে তার পুরো জীবনে
।খরগোশের গর্ভাকালীন সময় ২৯ থেকে ৩১ দিন ।প্রতি গর্ভে ৩ থেকে ৮ বাচ্চা প্রসব করে ।খরগোশের বাচ্চাকে ‘ কিটেন ( kitten) বা কিট (kit) বলে ।স্ত্রী খরগোশকে ডো ( doe) এবং পুরুষ খরগোশকে বাঁক (Buck) বলে ।

খরগোশের আবাসভূমি ( Habitat of Rabbit ) :–

গৃহপালিত খরগোশের জন্য নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের দরকার যা খরগোশকে যে কোনো পরিস্থিতি বিশেষ করে চরম পরিশ্রান্তি বা স্বাভাবিকের চেয়ে কম তাপমাত্রা থেকে রক্ষা করে ।অপরদিকে বন্য খরগোশ বিভিন্ন ধরনের তাপমাত্রা যখন চরম সীমায় পৌছায় তখন নিজেকে প্রতিকূল তাপমাত্রা থেকে রক্ষার জন্য তারা নিজেরাই তাদের বাসা তৈরি করে ।ফলে তাপমাত্রা চরম সীমা অতিক্রম করলেও তাদের তেমন কোন সমস্যা হয় না ।বন্য খরগোশ সাধারণত বনভূমি,মরুভূমি,তুন্দ্রা অঞ্চল,বৃক্ষহীণ তৃণভূমিতে ইত্যাদি জায়গাতে এদের দেখা যায় ।এসব অঞ্চলে তারা নিজেকে অভিযোজিত করার জন্য মাটির নিচে টানেল নির্মাণ করে ও সেখানে বসবাস করার জন্য বাসা তৈরি করে এবং সেখান তারা বিশ্রাম করে ও আরামদায়ক পরিবেশে নিরাপদে নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারে ।অবশ্য সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য একাধিক পথ রাখে । যেখানে খরগোশ বসবাস ও বংশ বিস্তার করে সে গর্তের গভীরতা প্রায় ৯ . ৮৪ ফিট বা ৩ মিটার হয়ে থাকে ।

খরগোশের অভ্যাস ( Habits of rabbit ): —

খরগোশ হলো সৃষ্টির খুবই সামাজিক জীব এবং তারা অনেকগুলো একত্রে মিলে বসবাস করতে পছন্দ করে ।তারা কলোনি গড়ে তোলে ।
সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকি মুক্ত অবস্থায় খাদ্য সংগ্রহ করতে খরগোশ গোধূলি ও ঊষা লগ্নে সব চেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় অতিক্রম করে ।শিকারি প্রাণির হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে খরগোশ কম আলোতে বের হয় ও নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চেষ্টা করে ।

খরগোশ সর্বদা শিকারি প্রাণির ( Predators )ঝুকিতে থাকে : —
খরগোশের জন্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পূর্ণ প্রাণি হলো পেঁচা ( Owls), বাজপাখি ( hawks,falcons), ঈগল ( Eagles), বন্য কুকুর ( wild dogs), বন্য বিড়াল ( feral cats), কাঠবিড়াল ( ground Squirrels) ইত্যাদি ।খরগোশের লম্বা পা থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে খুব দ্রুত দৌড়াতে সক্ষম এবং নিজেকে রক্ষা করতে শিকারিদের হাত থেকে বাঁচতে সুকৌশলে পলায়ন করে বা সহজে ধরা না দেয় যাতে শিকারি প্রাণির খাদ্যে পরিণত না হয় সেজন্য সহজে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারে ।
সত্য ঘটনা হলো যে, খরগোশ খুবই ধ্রুত ও খুব তাড়াতাড়ি শিকারি প্রাণি দূরে চলে যেতে পারে । একটি কটোনটেইল (Cottontail Rabbits ) জাতের খরগোশ জিগজাগ (zigzag pattern) ভাবে দৌড় দেয় এবং প্রতি ঘন্টায় ১৮ মাইল ( ২৯ কিলোমিটার/ ঘন্টা) পর্যন্ত দ্রুত গতিতে দৌড়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে ।
তথ্য – according to National Geographic.

খরগোশের কান ( Ears) ৪ ইঞ্চি (১০সে.মি) পর্যন্ত হয় ।শিকারি প্রাণির হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে খরগোশ তার কান ভালো ভাবে শোনার জন্য লম্বা করে।অবশ্য ঠান্ডা বা গরমের জন্যও কান লম্বা করে ।দেহের অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমানোর জন্য কানের রক্ত নালীকে ( blood vessels) কাজে লাগায় ।

খরগোশের চোখ নিজেকে নিরাপদ রাখতে খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে ।মাথা পিছন দিকে না ঘুরিয়েই তার প্রতিটি চোখ ৩৬০ ডিগ্রি ঘুড়িয়ে ( each eye can rotate 360 degrees) দেখতে পারে ।

খরগোশ তেমন কোন পুষ্টিকর খাদ্য তার সরবরাহকৃত খাদ্য থেকে পায় না ।খরগোশ প্রায়শই তার নিজেই নিজের বিষ্ঠা ভক্ষণ করে কিছু পুষ্টি উপাদান পাওয়ার আশায় ।কিন্তু তাতে প্রথমেই তার খাদ্যতন্ত্র পুষ্টি থেকে বিচ্যুত হয় ।